বাঞ্ছারামপুরে শিশুকে অপহরণের পর হত্যা!

Published by

on

ছবি: হত্যাকান্ডের শিকার ফাতেহা আক্তার

রেজাউল হক রহমত, স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বাঞ্ছারামপুরে সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপনের দাবিতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ অক্টোবর) সকালে বাঞ্ছারামপুর থানায় সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরির ১০ ঘণ্টার মধ্যে দুই অপহরণকারীকে আটক এবং অপহৃত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঞ্ছারামপুর থানাধীন দড়িয়াদৌলত ইউপিস্থ শুটকিকান্দি গ্রামে।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মো. নূরে আলম জানান, ফাতেহা আক্তার নামে সাত বছর বয়সী একটি কন্যা শিশু নিখোঁজ রয়েছে মর্মে সোমবার সকালে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন দড়িয়াদৌলত ইউপিস্থ শুটকিকান্দি গ্রামের প্রবাস ফেরৎ বাছেদ মিয়া। ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাছেদ মিয়ার মেয়ে ফাতেহা আক্তার (০৭) তার দাদুর ঘর থেকে একা বের হয়ে গিয়ে আর ঘরে ফিরে আসেনি। পরে ২ অক্টোবর সোমবার সকালে কবিরাজ পরিচয় দিয়ে অপহৃত শিশু ফাতেহার মা রুমী আক্তারের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারের ইমো অ্যাপসে ফোন করে মেয়ের মুক্তিপন দাবি করে। রাত ১০টার মধ্যে মুক্তিপন বাবদ চার লাক্ষ টাকা না দিলে এবং পুলিশকে জানালে শিশু ফাতেহাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মো. নূরে আলম শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরীর বিষয়টি নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলামকে অবহিত করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাজিম ও আলাউদ্দিন নামে দুই অপহরণকারীকে আটক করতে সক্ষম হন এবং তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী অনুযায়ী অপহৃত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, শিশু নিখোঁজের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাস্থল বাঞ্ছারামপুর থানাধীন দড়িয়াদৌলত ইউপিস্থ শুটকিকান্দি গ্রামে ছুটে যাই। বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ভিক্টিমের বাড়ির পাশে বসে মোবাইল ফোন চালাচ্ছিলো লাজিম নামে এক যুবক, এ সময় তাকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তার মোবাইল ফোন থেকে আলাউদ্দিন নামে একজনের সঙ্গে সন্দেহজনক কললিস্ট ও মুক্তিপন সংক্রান্ত ক্ষুদেবার্তা বিনিময়ের তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সবকিছু স্বীকার করে। লাজিম এবং আলাউদ্দিন মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে শিশু ফাতেহাকে অপহরণ করে। শিশু ফাতেহা তাদের দুজনকে চিনে বিধায় তাকে গলা টিপে হত্যা করে বাড়ীর অদূরে শুটকিকান্দি নদীতে কচুরিপানার নিচে লাশ গোপন করে রাখে। পরে তারা নিজেকে কবিরাজ পরিচয় দিয়ে চার লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। রাত দশটার মধ্যে না দিলে কিংবা পুলিশকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। লাজিমকে সঙ্গে নিয়ে অপর অভিযুক্ত আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদ্বয়ের দেখানোমতে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ভিকটিম ফাতেহা আক্তার এর মৃতদেহ বাঞ্ছারামপুর থানাধীন দড়িয়াদৌলত ইউপিস্থ শুটকিকান্দি নদীতে কচুরিপানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত লাজিম (১৮) দড়িয়াদৌলত গ্রামের রাজ্জাক মিয়ার ছেলে এবং আলাউদ্দিন (২১) শুটকিকান্দি গ্রামের মোমিন মিয়ার ছেলে। এদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় মামলা রজু করা হয়েছে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

Design a site like this with WordPress.com
শুরু করুন