
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে খাল, বিল, নদী বা যেকোন আকারের জলাশয়ে সবুজ পাতার যে কচুরিপানা দেখা যায় সেটা প্রায় দেড়শো বছর আগেও এ অঞ্চলে কেউ চিনতো না – এটি এখানে জন্মাতো না।
বাংলাদেশের জলাশয়ে এখন যে কচুরিপানা ভাসতে দেখা যায়, বাংলায় এই উদ্ভিদটির আগমন ঘটেছিল অভিশাপ হয়ে। যা সামলাতে তৎকালীন প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়েছিল।
কিন্তু আগমনের পরই কচুরিপানা নানাভাবে নাস্তানাবুদ করেছিল প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের, এমনকি নির্বাচনী ইশতেহারে কচুরিপানা নিধনের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভূক্ত করতে হয়েছিল এক সময়।
কচুরিপানা নামের এই উদ্ভিদ বাংলাদেশে এলো কীভাবে?
কচুরিপানার বাংলায় আগমন
কচুরিপানার বাংলায় আগমন ঘটেছিল ১৮৮৪ সালে। তবে এই আগমনের ইতিহাস নিয়ে নানা রকম তথ্য পাওয়া যায়।
জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বলছে, ১৮শ শতকের শেষভাগে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল থেকে কচুরিপানা নিয়ে আসা হয়েছিল।
মূলত আমাজন জঙ্গলের জলাশয়ে থাকা উদ্ভিদ এটি।
কচুরিপানার হালকা বেগুনি রঙের অর্কিড-সদৃশ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জর্জ মরগান নামে এক স্কটিশ ব্যবসায়ী ব্রাজিল থেকে বাংলায় কচুরিপানা নিয়ে আসেন।
অন্য আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের একজন পাট ব্যবসায়ী অস্ট্রেলিয়া থেকে এই কচুরিপানা বাংলায় এনেছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের দু-একটি স্থানে রান্না করেও খাওয়া হয় বলে জানা যায়, তাছাড়া চায়না ও ভিয়েতনামেও প্রক্রিয়াজাত শুকনা কুচুরিপানা রপ্তানি করা হয় যা দিয়ে তারা হাতে তৈরী বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরী করে থাকে। বাংলাদেশেও কচুরিপানা দিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরী করে বিদেশে রপ্তানি করছে।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান