
মিয়া মোহাম্মদ রুবেল, স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা জাহানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। নবীনগরের ভূমি কর্মকর্তা ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে তার অপরিসীম ভূমিকা স্থানীয় নারীদের উৎসাহী করে তুলেছে।
তিনি স্থানীয় নারীদের কাছে এখন “আইডল” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নবীনগরে সংঘটিত একাধিক ইভটিজিং ও নারীদের উপর হামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি সদা সর্তক থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। তার কঠোর ভূমিকার কারনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেকেই ফিরে পেয়েছেন নতুন জীবন।
স্কুল শিক্ষার্থী তমা (ছদ্মনাম) জানান, স্কুলে যাওয়ার সময় প্রায় একটি বখাটে ছেলে তার বন্ধুদের নিয়ে আমাকে বিরক্ত করতো। এসিল্যান্ড মাহমুদা জাহান আপার কঠোর পদক্ষেপের কারনে বখাটে ছেলেটি আর আমাকে বিরক্ত করে না।
ভূমি সেবা নিতে আসা আয়েশা আক্তার জানান, উনাকে আপা বলে ডাকায় আমার পাশে থাকা একজন “স্যার / ম্যাডাম” বলে ডাকতে বললেও তিনি আমাকে অভয় দিয়ে “আপা” ডাকতেই বলেন। তিনি বলেন আমি আপনাদেরই মতন একজন মানুষ। এটা আমার চাকরি। আমার কাজ সেবা প্রদান করা। কেস্যার ডাকলো কে আপা ডাকলো এটা মূখ্য নয়।
নবীনগরের স্কুল-কলেজে ও গ্রামে পরিদর্শন ও সরকারি কাজে যাওয়ার মুহূর্তে নারী ও শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে, পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হতে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন।
সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদ জাহান বলেন, আমি একজন নারী হয়ে উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি তা চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের মাঝে শেয়ার করার। নারীদের জন্য যে কোন চাকরিই অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমি একজন নারী হিসেবে চাই অন্য নারীরাও এগিয়ে আসুক। তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে নিজের যোগ্যতা জানান দিক। শুধু নবীনগরের নয়, যে কোন এলাকার নারীরা আমার কাছে কোন পরামর্শের জন্য আসলে সততার সাথে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি উনাদের সহযোগিতা করার।
শুধু নারী জাগরনেই নয় ভূমি ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। তার প্রশংসা এখন নেটিজেনদের মুখে মুখে। নবীনগরের অবৈধ ব্যবসায়ী, মাদক বিক্রেতা, দুর্নীতিবাজ, ইভটিজারদের জন্য মাহমুদা জাহান একটি আতংকের নাম।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান