
ডেস্ক রিপোর্ট: ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগরের ভোলাচং গ্রামের স্বর্গীয় রঞ্জিত দাশের বাড়িতে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সনাতনী পদ্ধতিতে হাতে তৈরি করে চলেছেন চানাচুর। যা স্বাদে মজাদার ও গুণগত মানের হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয় উঠেছে রঞ্জিত দাশের চানাচুর।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা ভোলাচং গ্রামের রঞ্জিত দাসের চানাচুর কিনতে আসছেন অনেকেই। রঞ্জিত দাসের মৃত্যুর পর তার ছেলে শিবু দাস ও গৃহিনীদের সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে দেশব্যাপী সুখ্যাতি অর্জন করা এ চানাচুর।
বাংলাদেশে খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে নবীনগরের সন্দেশের সুনাম ও সুখ্যাতি থাকলেও বর্তমানে সন্দেশের দেখা মেলে না। এক সময় মুদি দোকান ও মিষ্টি দোকানগুলোতে সন্দেশ পাওয়া গেলেও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। কথা সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ুন আহমেদের “ঘেঁটু পুত্র কমলা” চলচ্চিত্রে নবীনগরের সন্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে রঞ্জিত দাসের চানাচুর দখল করেছে সে জায়গা!
এ বিষয়ে ভোলাচং নতুন বাজারে অবস্থিত রঞ্জিত দাসের মুদি দোকানে গিয়ে খোঁজ নিলে জানা যায় বার্ধ্যকজনিত কারনে তিনি মারা গেছেন। বর্তমানে দোকানটি পরিচালনা করছেন তার ছেলে শিবকুমার দাস।
শিবকুমার দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বাবা একসময় সিঙ্গারা-ভাজিঁ-ডালপুরী বিক্রি করতো। মনের খেয়ালে একদিন তিনি চানাচুর বানাতে উৎসাহিত হন ও একদিন বানিয়ে পরিবারের সদস্যসহ নিকটজনদের খেতে দেন, সবাই খুব প্রশংসা করলে তিনি দোকানে অল্প পরিমানে বানিয়ে বিক্রি করতে থাকলে দ্রুত এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে সবখানে। ধীরে ধীরে দুর-দুরান্ত থেকে চানাচুর খেতে ও বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই আসতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কোন কেমিক্যাল বা রং ব্যবহার না করে বাড়িতে চানাচুর তৈরি করে বিক্রি করে আসছি। তিনি আরো জানান, ১৬০ টাকা প্রতি কেজি হিসেবে দিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কেজি চানাচুর বিক্রি করে চলেছেন তিনি।
এতে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা আয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের ( রঞ্জিত চানাচুর ) নাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বানিজ্যিক ভাবে চানাচুর বিক্রি করে আসছেন। এতে অনেক ক্রেতাই হচ্ছেন বিভ্রান্ত ও প্রতারিত। তাতে করে বিক্রি যেমন কমে আসছে তেমনী বাড়ছে হতাশা।
মো. হোসেন মিয়া নামে একজন ক্রেতা জানান, তিনি পাশবর্তী মুরাদনগর থানা থেকে এসেছেন রঞ্জিত দাশের চানাচুর কিনতে।
রঞ্জিত দাশের চানাচুরের কথা তিনি শুনেছেন অনেক দিন ধরে, তাই তিনি আজকে আসছেন কিনতে।
বিপুল নামে আরেকজন ক্রেতা জানান, এখন মুদি দোকানসহ বিভিন্ন স্টেশনারীতে রঞ্জিত দাশের চানাচুর বিক্রি করা হলেও তাতে কেমন জানি গন্ধ করে ও বিস্বাদ লাগে। পরে জানতে পারলাম আমি প্রতারিত হয়েছি। এজন্য অনেক খুঁজে আজ সরাসরি রঞ্জিত দাশের দোকানে চানাচুর কিনতে আসলাম।
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান